বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য ভোটার হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
কেন ভোট দেননি রুমিন ফারহানা?
ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না। ফলে তাঁর কাছে এই প্রক্রিয়াটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের পরিবর্তে আনুষ্ঠানিকতার মতো মনে হয়েছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একজন অরাজনৈতিক ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ কেন তৈরি হলো না।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যপদ হারানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। এ কারণে তিনি এমন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখেননি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কী বলে?
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। একইভাবে নিজ দলের বিপক্ষে সংসদে ভোট দিলেও সদস্যপদ হারানোর বিধান রয়েছে।
এই সাংবিধানিক বিধানকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্য যাঁরা ভোট দেননি
ভোট না দেওয়া ছয়জনের মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুকও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হননি।
খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করায় ভোট দিতে পারেননি বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।
এ ছাড়া বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি এই নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ছিলেন না। ফলে কার্যকর ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪৯ জনে।
ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চলাকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভোটদানে বিরত থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট না দেওয়ার কথা জানানো হয়।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জুলাই সনদে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে সরে যাওয়ার কারণেই তারা নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে ওই সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা যায়।
ফলাফলে মির্জা ফখরুলের জয়
শেষ পর্যন্ত ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। তাঁদের ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

0 Comments