চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ঢাকার চীনা দূতাবাস। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে এর পেছনে ‘গোপন উদ্দেশ্য’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দূতাবাস।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য সত্য ও মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলেছে এবং তা সম্পূর্ণভাবে একটি গোপন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা ভবিষ্যতে নির্বাচিত যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।
রাষ্ট্রদূতের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চীনা দূতাবাস তাদের অবস্থান জানায়। মুখপাত্র বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর গত পাঁচ দশকে চীন ও বাংলাদেশ পরস্পরকে সমর্থন করে আসছে। দুই দেশ সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হয়েছে।
চীনা দূতাবাসের দাবি, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং এ সহযোগিতা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা দুই দেশ ও তাদের জনগণের নিজস্ব বিষয়। এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বা আঙুল তোলার কোনো সুযোগ নেই।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চীনা দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার জন্য সহায়ক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

0 Comments