🔴 BREAKING NEWS
চট্টগ্রামে ৪২ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত, থমকে আছে জনজীবন রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা: সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ, নতুন মামলায় গ্রেফতার সাবেক প্রধান বিচারপতি অর্থনীতি: কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে তীব্র সংকটে প্লাস্টিক শিল্প ক্রীড়াঙ্গন: ভারতের সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস এবং বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়

সেদিন বিদ্রোহ করলে দেশে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারত’—শফিকুর রহমান

 



নেক্সট নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্যকে পরাজিত করা হলেও তারা দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। তাঁর দাবি, সেদিন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিদ্রোহের পথে গেলে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারত।

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য

‘বিদ্রোহ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারত’

শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ পরিচয় বহন করলেও তারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টি স্বীকারও করা হয়েছে।

তিনি বলেন,

“জামায়াতসহ ১১ দল সেদিন রিভোল্ট (বিদ্রোহ) করলে বা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো, তার শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত কেউ জানে না। তাই আমরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছি।”

বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, দলটি জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। তাঁর দাবি, সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি একদিকে ‘জুলাই চার্টার’-কে সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝতে না পারে বলে দাবি করা হয়, তাহলে বিএনপির ৩১ দফা জনগণ কীভাবে বুঝেছে।

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে’

শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার হবে।

‘নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া হবে না’

জামায়াতের আমির বলেন, পুরোনো কিংবা নতুন—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদই তারা মেনে নেবেন না। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে জেল-জুলুমসহ সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে তারা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের সম্মান রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অপমান করার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে তারা নন বলেও উল্লেখ করেন।

সেমিনারে যারা উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

No comments:

Powered by Blogger.