Header Ads Widget

Responsive Advertisement

হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি ভারতে চলবে না, মোদিকে অভিজিৎ দীপকের বার্তা


ডেস্ক রিপোর্ট

হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বদলে হিন্দু-মুসলিমের ঐক্য ও সহাবস্থানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় দীপকে বলেন, ভারত এগিয়ে যাবে তখনই, যখন হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে থাকবে। যারা ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করতে চান, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন রাজনীতি করতে হলে পাকিস্তানে গিয়ে করতে হবে।

ধর্মীয় বিভাজনের বদলে ঐক্যের আহ্বান

দীপকের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতির বিরোধিতা। তার দাবি, ভারতের শক্তি দেশটির বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের সংস্কৃতিতে।

তিনি হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার আহ্বান জানান।

নির্বাচন কমিশন ঘিরে আন্দোলনের মধ্যেই বক্তব্য

দীপকের এই বক্তব্য আসে ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে।

মুম্বাইয়ের ওই সমাবেশও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগের প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকার অবশ্য এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।

জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় অভিজিৎ দীপকে

অভিজিৎ দীপকে চলতি বছর ককরোচ জনতা পার্টির মাধ্যমে ভারতের রাজনৈতিক আলোচনায় পরিচিতি পান। শুরুতে এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক ও অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে সামনে এলেও পরে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, সরকারি জবাবদিহি এবং নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এর আগে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের পরিধি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের গণ্ডি ছাড়িয়ে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতেও বিস্তৃত হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

অভিজিৎ দীপকের সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারতের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয় ও বিভাজনমূলক রাজনীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। তার বক্তব্যে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি এবং উন্নয়নভিত্তিক রাজনীতির ওপর জোর দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে দেওয়া মন্তব্যটি রাজনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে দীপকের বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও মন্তব্য হিসেবে দেখা উচিত; এটিকে ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা সরকারের নীতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

Post a Comment

0 Comments