হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির নেতা ও ৫ ও ৬ নম্বর বাজারের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৫ ও ৬ নম্বর বাজার এলাকায় তাঁর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বানিয়াচং থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হাদিউল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি সংঘর্ষ ও মারামারি মামলার প্রধান আসামি। তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই মামলার দ্বিতীয় আসামিকেও এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যে ঘটনায় মামলা
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২ নম্বর উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের আদমখানী মহল্লায় স্বপন মিয়া ও তাঁর প্রতিবেশী ওদুদ মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ইফতারের পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় স্বপন মিয়ার লোকজন ওদুদ মিয়ার বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলাটির তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ঘটনার পর ওদুদ মিয়ার স্ত্রী কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় মামলা করেন। ৬ মার্চ ২০২৬ দায়ের করা মামলায় তোফাজ্জল হোসেন স্বপন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
মামলাটির নম্বর ৬ এবং তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন বানিয়াচং থানার এসআই হাদিউল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার দ্বিতীয় আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার স্বপন মিয়াকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পুলিশের এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মামলাটি নিয়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলায় থাকা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সংঘর্ষের কারণ
স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সংঘর্ষে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

0 Comments