Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পাশে ট্রাম্প, ইরান ইস্যুতে নতুন সমীকরণ


ভোটের মাত্র ৯ দিন আগে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য অবস্থান; ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জোট সরকার গঠনের সমীকরণ ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জেরুজালেম–ওয়াশিংটন: ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় না থাকলে ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে একাই আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হতে পারে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রকাশ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তানীতি, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এমন প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভোটের ফলাফলে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন: ‘শক্তিশালী ও সাহসী নেতা’ হিসেবে নেতানিয়াহুর প্রশংসা

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহুর মতো একজন দৃঢ় অবস্থানের নেতা থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা, রাজনৈতিক চাপ এবং বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও নেতানিয়াহু নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন।

পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইসরায়েলের ভোটাররা নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কাউকে নির্বাচিত করলে ইরানকে মোকাবিলার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও সরাসরি এসে পড়তে পারে। তিনি নিজে সেই দায়িত্ব এককভাবে নিতে আগ্রহী নন বলেও ইঙ্গিত দেন।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত ইসরায়েলি ভোটারদের সামনে একটি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরেছেন: তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইরানবিরোধী নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে তিনি বেশি উপযোগী মনে করেন।

নির্বাচনের ঠিক আগে অবস্থান বদল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ট্রাম্পের এই সমর্থন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলের নির্বাচনি প্রচার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অন্যতম শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা, কূটনৈতিক সমর্থন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর সেই রাজনৈতিক যুক্তিকে আরও জোরালো করতে পারে।

তবে বিদেশি কোনো নেতার সমর্থন পেলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হয় না। ভোটাররা সাধারণত নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতির অভিযোগ, যুদ্ধের ফলাফল এবং সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম বিবেচনা করেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ভোটার যদি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তাহলে ট্রাম্পের বক্তব্য তাঁর কাছে ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে, কোনো ভোটার যদি মনে করেন দীর্ঘ সংঘাতের ফলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে, তাহলে তিনি একই বক্তব্যকে সরকারের বিদ্যমান নীতির প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এগুলো সম্ভাব্য ভোটার-প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ, কোনো জরিপের ফল নয়।

ইরান ইস্যু কেন নির্বাচনের কেন্দ্রে?

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত বিরোধ রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানকে ঘিরে তার মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক ও আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের বক্তব্যকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে; সংঘাতের প্রকৃত সামরিক ফলাফল, ক্ষয়ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নেতানিয়াহুর জন্য ইরান ইস্যু নির্বাচনে দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রথমত, নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভোটারদের কাছে কঠোর ইরানবিরোধী অবস্থান তাঁকে অভিজ্ঞ ও দৃঢ় নেতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ব্যয়, সম্ভাব্য প্রাণহানি, সামরিক ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটাররা সরকারের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।

অর্থাৎ, একই নিরাপত্তা ইস্যু একদল ভোটারের কাছে নেতানিয়াহুর পক্ষে যুক্তি তৈরি করতে পারে, আবার অন্যদের কাছে তাঁর সরকারের নীতির মূল্যায়নের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল নিরাপত্তা, সামরিক অভিযান এবং জিম্মিদের মুক্তির প্রশ্নে দীর্ঘ সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। ওই হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক তৈরি হয়।

নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা সাধারণত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় তাঁর অভিজ্ঞতা, সামরিক শক্তি ব্যবহারের নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা নিরাপত্তা ব্যর্থতার জবাবদিহি, যুদ্ধের কৌশল, সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে নেতানিয়াহুর চাপ মোকাবিলার ক্ষমতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু এই প্রশংসা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অবসান ঘটায় না। ভোটারদের সামনে মূল প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হয়েছে, যুদ্ধের লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংঘাত কমানোর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা কী।

ট্রাম্পের সমর্থনে নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমর্থন ও দুই দেশের যৌথ কাজের প্রশংসা করেন এবং বলেন, তাঁরা একসঙ্গে তাঁদের মিশন সম্পন্ন করবেন।

নেতানিয়াহু ট্রাম্পের বক্তব্যের অনুবাদও শেয়ার করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকাসংবলিত হৃদয়ের প্রতীকযুক্ত ছবি প্রকাশ করেন বলে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রতিক্রিয়া দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। নির্বাচনের আগে এমন বার্তা নেতানিয়াহুর প্রচারে কাজে লাগতে পারে, বিশেষ করে যেসব ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

তবে রাজনৈতিক বার্তা এবং বাস্তব নীতিগত ফলাফল এক বিষয় নয়। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বজায় থাকলেও গাজা, লেবানন, ইরান এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের অগ্রাধিকার সব সময় পুরোপুরি এক নাও হতে পারে।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে সমর্থন, কিন্তু ভোটের ফল অনিশ্চিত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী ও ধর্মীয় জায়নবাদী দলের নেতা বেজালেল স্মোত্রিচ ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পকে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও এই সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল গুরুত্ব ছিল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা।

তবে ক্ষমতাসীন নেতার পক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সমর্থন এবং নির্বাচনে ভোটারদের বাস্তব পছন্দ এক নয়। ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় কোনো দল বা জোটের পক্ষে এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব না হলে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হওয়া এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অনিশ্চয়তার কথা উঠে এসেছে। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনা, ছোট দলগুলোর অবস্থান এবং জোটের সমীকরণও ফলাফলের মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের সমর্থন কি ভোটের ফল বদলে দিতে পারে?

এ প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এক. আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমর্থন নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করতে পারে।

দুই. নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ভোটারদের কাছে বার্তা: ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার যুক্তি নেতানিয়াহুর সমর্থকদের আরও সক্রিয় করতে পারে।

তিন. বিরোধীদের জন্য পাল্টা প্রশ্ন: বিরোধী দলগুলো ট্রাম্পের সমর্থনের বিপরীতে সরকারের নিরাপত্তা-রেকর্ড, যুদ্ধের ফলাফল, অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক জোরদার করতে পারে।

তবে এর বিপরীত সম্ভাবনাও রয়েছে। কোনো ভোটার বিদেশি নেতার সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে না নিয়ে বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে বাইরের প্রভাবের প্রশ্ন তুলতে পারেন। আবার ভোটারদের কাছে অর্থনীতি বা সরকারের জবাবদিহি যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে ট্রাম্পের বক্তব্য তাঁদের সিদ্ধান্তে সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে।

সুতরাং সমর্থনের রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও এর ফল নির্ধারণ করবে ভোটারদের মনোভাব, নির্বাচনি প্রচারের শেষ পর্যায়ের ঘটনা, ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচনের পর জোট গঠনের সক্ষমতা।

বিশ্লেষণ: নির্বাচন শুধু নেতৃত্বের নয়, ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কৌশলেরও পরীক্ষা

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেবল নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এ নির্বাচন ইসরায়েলের নিরাপত্তা, যুদ্ধনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে পারে।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নির্বাচনি সম্পদ হলেও তা একমাত্র নির্ধারক নয়। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য কূটনৈতিক শক্তির বার্তা বহন করে। কিন্তু ভোটাররা এই সম্পর্কের বাস্তব সুফল—নিরাপত্তা, কূটনৈতিক প্রভাব ও সংঘাতের পরিণতি—কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, ইরান নীতি ও যুদ্ধের ফলাফল রাজনৈতিকভাবে পরস্পরবিরোধী প্রভাব ফেলতে পারে। কঠোর অবস্থান নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে; একই সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের ব্যয় ও অনিশ্চয়তা অন্য ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।

তৃতীয়ত, সরকার গঠনের সক্ষমতা নির্বাচনের পরের বড় পরীক্ষা। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোটের আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি কোন দল কার সঙ্গে সরকার গঠন করতে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

চতুর্থত, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ইসরায়েলের বাইরেও বিস্তৃত। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, তেল পরিবহন ও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আঞ্চলিক অর্থনীতি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি বা বাজার পরিবর্তনের মাত্রা নির্ধারণে হালনাগাদ পরিসংখ্যান দরকার।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা যোগ করেছে। কিন্তু এটি জয়ের নিশ্চয়তা নয়। নির্বাচনের প্রকৃত তাৎপর্য বোঝার জন্য ভোটারদের রায়, সংসদীয় আসনের হিসাব, সরকার গঠনের সমীকরণ এবং ইরানসহ আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ নীতির দিকে নজর রাখতে হবে।

উপসংহার: ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক ও ইরান ইস্যুকে আরও দৃশ্যমান করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে দেশটির ভোটাররা—আর নির্বাচনের পরের রাজনৈতিক সমঝোতাই ঠিক করবে এই সমর্থন বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলেছে।

Post a Comment

0 Comments