Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকে শিক্ষক সংকট, পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম কবে?


প্রথমবারের মতো আর্কিটেকচার ও কম্পিউটার প্রযুক্তিতে ছাত্রীদের পাঠদান শুরু; রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, জনবল অনুমোদন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো চালু না হওয়ায় সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ

বরিশাল প্রতিনিধি | শিক্ষা ডেস্ক

বরিশাল অঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নির্মিত সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অবশেষে শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ব্যাচের ছাত্রীদের নিয়ে পাঠদান শুরু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের নারী শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো নির্মাণের বড় অংশ সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা এখনো কাটেনি। ফলে প্রত্যাশিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

প্রায় ৬০ কোটি টাকার দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একদিকে যেমন নারী শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের আশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে জনবলসংকট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করতে এখন দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

দুটি বিভাগে শুরু পাঠদান, প্রথম ব্যাচে প্রায় অর্ধশত ছাত্রী

বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রাথমিকভাবে চালু হয়েছে দুটি প্রযুক্তিভিত্তিক বিভাগ—আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এসব বিভাগে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীসংখ্যা ৪৭ ও ৪৮—দুইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি রেজিস্টার থেকে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে শিক্ষার্থীরা ভবনের নকশা, স্থাপত্য-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত কাজ, নির্মাণ পরিকল্পনা ও নকশা প্রস্তুতের মতো বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে কম্পিউটার, সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবাসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই দুটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, আর্কিটেকচার বিষয়ে দক্ষ একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে নকশা ও ড্রাফটিং-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন। কম্পিউটার প্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষার্থী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, আইটি সাপোর্ট, ডিজিটাল সেবা বা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে এসব সুযোগ বাস্তবে কাজে লাগাতে মানসম্মত পাঠদান, পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ছয়জন শিক্ষক দিয়ে শুরু, জনবল ঘাটতিই বড় বাধা

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে। মূল প্রতিবেদনে বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে প্রেষণে ছয়জন শিক্ষক পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ, ইন্সট্রাক্টরসহ মোট ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের তথ্য এসেছে। এই সংখ্যাগুলোর মধ্যে শিক্ষক ও কর্মচারীর হিসাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদের পার্থক্য থাকতে পারে; তাই পূর্ণাঙ্গ জনবলচিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোয় প্রায় ৯৫টি শিক্ষকের পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি শাখার বিভিন্ন পদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টিও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শুধু তাত্ত্বিক ক্লাস নিলেই কারিগরি শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি ল্যাব, ওয়ার্কশপ, কম্পিউটারভিত্তিক অনুশীলন, প্রকল্প তৈরি এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শিক্ষক ও কারিগরি প্রশিক্ষকের ঘাটতি থাকলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়তে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে, কম্পিউটার বিভাগে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে কোডিং, নেটওয়ার্কিং বা সফটওয়্যারভিত্তিক অনুশীলনে সহায়তা দেওয়া কঠিন হতে পারে। একইভাবে আর্কিটেকচার বিভাগে নকশা প্রস্তুত, ড্রাফটিং ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম না থাকলে শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ কারণে শুধু ভর্তি ও ক্লাস শুরুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে অনুমোদিত জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করা, প্রয়োজনীয় পদে নিয়োগ দেওয়া এবং নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন, ছাত্রীদের আবাসনেও বড় সুবিধা

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণকাজের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক অবকাঠামোর বড় অংশ তৈরি হয়েছে। মূল প্রতিবেদনে ছয়তলা প্রশাসনিক ভবন, ছয়তলা একাডেমিক ভবন, পাঁচতলা শিক্ষক ডরমিটরি, ২০০ আসনের ছাত্রীনিবাস, স্টাফ কোয়ার্টার এবং অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন একর জমিতে সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশদ্বার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। তবে ওয়ার্কশপ ভবনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করে হস্তান্তরের লক্ষ্য ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ একটি বড় অগ্রগতি হলেও ভবন তৈরি হওয়া আর পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি কার্যকর ল্যাব, ওয়ার্কশপ, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে দূরবর্তী উপজেলা থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসনের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ ছাত্রীনিবাস ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ থাকলে পরিবারের পক্ষে মেয়েদের কারিগরি শিক্ষায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। তবে আবাসন ভবন নির্মিত হলেই তা ব্যবহার উপযোগী হয়েছে ধরে নেওয়া যায় না; প্রয়োজনীয় আসবাব, নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।

রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা

প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের পথে বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং জনবল অনুমোদনের বিষয়টি। মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হয়নি। এ কারণে নিয়মিত পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

সাধারণভাবে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর নিয়মিত বাজেট, অনুমোদিত পদ, বেতন-ভাতা, সরঞ্জাম কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর না হলে নির্মিত অবকাঠামো পুরো সক্ষমতায় ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে।

বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি শুধু ভবন হস্তান্তরের নয়; বরং কে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত পরিচালন ব্যয় বহন করবে, অনুমোদিত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কীভাবে হবে এবং ল্যাব ও ওয়ার্কশপের প্রয়োজনীয় উপকরণ কীভাবে সরবরাহ করা হবে—এসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

মূল প্রতিবেদনে প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন বছরের ৩০ জুন এবং প্রকল্পের সর্বশেষ প্রশাসনিক অবস্থা কী, তা প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা উচিত।

নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

বরিশাল অঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত সরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের সূচনা কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি সুযোগ। অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হলেও দূরত্ব, আবাসন, ব্যয় এবং উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পড়তে পারেন না। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলে এসব বাধার কিছুটা সমাধান হতে পারে।

কারিগরি শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব হলো, এর পাঠ্যক্রমকে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। কম্পিউটার প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সফটওয়্যার, আইটি সাপোর্ট, ডিজিটাল সেবা কিংবা অনলাইনভিত্তিক কাজে প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে পারেন। আর্কিটেকচার বিষয়ে অর্জিত দক্ষতা ভবন নকশা, ড্রাফটিং, নির্মাণ খাতের প্রযুক্তিগত কাজ এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজে লাগতে পারে।

তবে ডিপ্লোমা বা কারিগরি সনদ অর্জন করলেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে স্থানীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের যোগাযোগ গড়ে তোলা যেতে পারে।

এ ধরনের সংযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কোন বিষয়ে কতজন দক্ষ কর্মী তৈরি করছে এবং তাঁদের কতজন চাকরি বা স্বনিয়োজনে যুক্ত হচ্ছেন, সেই তথ্য দিয়ে শিক্ষার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

শুধু ভর্তি নয়, শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ

নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের যাত্রা শুরু হওয়া ইতিবাচক ঘটনা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য নির্ভর করবে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন কি না, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং তাঁদের কর্মজীবনের জন্য কতটা প্রস্তুত করা যাচ্ছে—তার ওপর।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, জনবল অনুমোদন ও নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা। শিক্ষক, কারিগরি প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মচারীর ঘাটতি থাকলে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ওয়ার্কশপ ও ল্যাব পুরোপুরি চালু করা। ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, সফটওয়্যার এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, নিয়মিত বাজেট ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত নিষ্পত্তি হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

চতুর্থত, শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ বাড়ানো। ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং বাস্তব প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

পঞ্চমত, অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা। কতটি পদ অনুমোদিত, কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, ওয়ার্কশপ কবে চালু হবে এবং অবশিষ্ট নির্মাণকাজ কখন শেষ হবে—এসব বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রকৃত অগ্রগতি বুঝতে পারবেন।

বিশ্লেষণ: প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর

বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট—অবকাঠামো নির্মাণ এবং কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা একই ধরনের কাজ নয়। প্রথমটির জন্য প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন ও নির্মাণকাজ প্রয়োজন; দ্বিতীয়টির জন্য নিয়মিত বাজেট, অনুমোদিত জনবল, কার্যকর প্রশাসন, শিক্ষা উপকরণ এবং ধারাবাহিক তদারকি অপরিহার্য।

প্রায় ৬০ কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণের পর যদি পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও পরিচালন ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে, প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত সমাধান করে প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রতিষ্ঠান দক্ষিণাঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এখানে সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো নির্মাণ প্রকল্পের সমাপ্তি এবং নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে কোনো দীর্ঘ বিরতি তৈরি হতে না দেওয়া। প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ, রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, জনবল অনুমোদন এবং সরঞ্জাম সরবরাহকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

শেষ কথা: বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরু হওয়া নারী শিক্ষায় সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে শিক্ষার্থীরা কতটা মানসম্মত শিক্ষা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন এবং তাঁদের দক্ষতা কর্মসংস্থানে কতটা কাজে লাগছে—তার মাধ্যমে। এখন প্রয়োজন প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করা, যাতে নির্মিত অবকাঠামো বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Post a Comment

0 Comments