Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ঝোপে প্লাস্টিকের ব্যাগে নবজাতক, ইউএনওর উদ্যোগে চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা


কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঝোপের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যাগে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নবজাতক কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় এক বাসিন্দার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পর বর্তমানে শিশুটি সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বুধবার ভোরে উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের খাগাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝোপের ভেতর থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। কাছে গিয়ে তিনি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে নবজাতক শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন।

বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের নির্দেশনায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

কান্নার শব্দে মিলল শিশুটির সন্ধান

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের নির্জন সময়ে বিদ্যালয়ের সামনের ঝোপ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান নজরুল ইসলাম। প্রথমে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্লাস্টিকের একটি ব্যাগের মধ্যে নবজাতক পড়ে আছে।

শিশুটিকে উদ্ধারের পর দ্রুত পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জন্মের পরপরই কোনো নবজাতককে খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে ঠান্ডা, পানিশূন্যতা, সংক্রমণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইউএনওর হস্তক্ষেপে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের নির্দেশনায় নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিশুটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ

হাসপাতালে নবজাতকটির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই শিশুটিকে এক নজর দেখতে হাসপাতালে আসছেন।

কেউ কেউ শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। তবে শিশুটিকে কার কাছে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত আবেগের ভিত্তিতে নয়; প্রচলিত আইন, শিশু সুরক্ষা নীতি এবং শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

এ কারণে আগ্রহী কোনো ব্যক্তি বা পরিবার সরাসরি শিশুটিকে নেওয়ার সুযোগ পাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া

ইউএনও মো. উমর ফারুক জানান, নবজাতকটির চিকিৎসা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

তিনি জানান, শিশুটিকে দায়িত্বশীল ও উপযুক্ত পরিবারের কাছে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থাৎ আপাতত শিশুটির পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

বাবা-মায়ের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত

এদিকে নবজাতকটির প্রকৃত বাবা-মা বা অভিভাবকের পরিচয় শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শিশুটিকে কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে, কখন সেখানে আনা হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চিকিৎসা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক সংস্থা

নবজাতকটির চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ, সমাজসেবা বিভাগ ও পুলিশ কাজ করছে।

এ কাজে সহযোগিতা করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিবলিজ্জামান এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ।

সমন্বিতভাবে শিশুটির চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

শিশুটির নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর নবজাতকটি দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সুরক্ষা পেয়েছে।

তবে ঘটনাটি একই সঙ্গে সমাজের জন্য একটি গুরুতর প্রশ্নও সামনে এনেছে। কোনো নবজাতককে এভাবে জনমানবহীন স্থানে ফেলে যাওয়ার পেছনে কী পরিস্থিতি কাজ করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি।

অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ, পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ থাকলেও একটি নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দেওয়া তার জীবনকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

Post a Comment

0 Comments