জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিজিবি ও এসআরবির যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৩ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। মূর্তি পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে অভিযানকারী দল। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের অভিযান
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলার বিহারপুর গ্রামে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি-২০ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আক্কেলপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি চক্র কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়।
তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিজিবি ও এসআরবির সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাড়িতে অভিযান, প্রথমে আটক ২
বিজিবি-২০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে একটি বিশেষ টহলদল এবং এসআরবির সদস্যরা যৌথভাবে বিহারপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে বিহারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় জালালপুর গ্রামের সচীন মন্ডলের ছেলে শ্রী মুকুল চন্দ্র মন্ডল (৩৮) ও বিহারপুর গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেনকে (৫০) আটক করা হয়।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পাথরের মূর্তি।
আটক ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে আরও ২ জন আটক
বিজিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও সম্প্রসারিত করা হয়।
পরবর্তী অভিযানে আক্কেলপুর গ্রামের মৃত সিরাজের ছেলে হামিদুর রহমান (৬২) এবং অনন্তপুর গ্রামের মাহাতাবের ছেলে জাকির হোসেনকে (৫০) আটক করা হয়।
এ নিয়ে অভিযানে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
মূর্তির ওজন প্রায় ৭৩ কেজি
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মূর্তিটির ওজন প্রায় ৭৩ কেজি। এর আনুমানিক সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
তবে মূর্তিটির প্রকৃত ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাচারকারী চক্রের আরও সদস্য রয়েছে কি না, তদন্ত
বিজিবির দাবি, আটক চারজনই মূর্তি পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তবে তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার করা মূর্তি ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আক্কেলপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মূর্তিটির ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি কথিত পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

0 Comments