Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নভেম্বরে রূপপুরের বিদ্যুৎ, শেষ ধাপের প্রস্তুতিতে পারমাণবিক কেন্দ্র


প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য

জাতীয় ডেস্ক

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে আগামী নভেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে শেষ পর্যায়ের কারিগরি প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

শেষ মুহূর্তে কারিগরি তৎপরতা

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রেসারাইজারের পিআরভি পরীক্ষায় শনাক্ত ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এই কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন এবং পাওয়ার স্টার্টআপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আনুমানিক নয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, কারিগরি কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরের মধ্যেই উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে পরীক্ষার সময় নতুন কোনো ত্রুটি বা জটিলতা শনাক্ত হলে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

উৎপাদন খরচ কত হতে পারে?

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। প্রকল্পের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা

পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ার পরও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে রাখার প্রত্যাশা রয়েছে বলে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়ায় ফেরত নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি ও ব্যয়ের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত না হওয়ায় এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন সংযোজনের অপেক্ষা

সব কারিগরি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হলে নভেম্বরেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ বাস্তবায়িত হবে।

তবে উৎপাদন শুরুর সময়সূচির পাশাপাশি নিরাপত্তা, ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত পাঠানো এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

Post a Comment

0 Comments