আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ভারত
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে কলকাতার নরকেলডাঙ্গা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়িকে ধাওয়া করে পথরোধ করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা গাড়ির সামনের কাচে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করে। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী অস্ত্র বের করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর কুণাল ঘোষের গাড়ি নরকেলডাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের বাইরে রাখা হচ্ছে না। নরকেলডাঙ্গা থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা
এর মাত্র এক দিন আগেই হুগলি জেলার উত্তরপাড়া এলাকায় কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। শনিবার একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তার গাড়িকে ঘিরে ইট, পাথর, ডিম ও লোহার রড ছোড়ার অভিযোগ করা হয়। এতে গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরপর দুই দিনের ঘটনায় কুণাল ঘোষ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্বীকার বিজেপির
কুণাল ঘোষ হামলার পেছনে বিজেপি-সমর্থিত ব্যক্তিদের দায়ী করার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। টিএমসি নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে বিজেপি নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। বিজেপির কয়েকজন নেতা বরং ঘটনাটিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ; ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
পুলিশের তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সিসিটিভি
পরপর দুই দিনের হামলার অভিযোগের পর কলকাতা পুলিশের তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রথম ঘটনার সঙ্গে দ্বিতীয় ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, হামলাকারীদের পরিচয় কী এবং রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

0 Comments