আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ২৯টি দেশে পাঠানোর তথ্য; আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, আদালতে নীতিটি চ্যালেঞ্জের মুখে
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও অভিবাসীবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর তৃতীয় দেশের মাধ্যমে অভিবাসী প্রত্যাবাসনের জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জনকে ২৮টি দেশে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
তৃতীয় দেশে পাঠানোর নীতি কী?
এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মুখে থাকা কোনো অভিবাসীকে সবসময় তার নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে অন্য একটি দেশে পাঠানো হয়। এসব দেশকে অভিবাসীর ‘তৃতীয় দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বা যাদের নিজ দেশ তাদের ফিরিয়ে নিতে চায়নি, তাদের ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩৫ দেশের সঙ্গে চুক্তির তথ্য
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর উদ্দেশ্যে ৩৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত তথ্যের বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার তথ্যও সামনে এসেছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও শরণার্থী সংস্থাগুলোর জন্যও অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।
কোন কোন দেশে পাঠানো হয়েছে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় দেশ হিসেবে মেক্সিকো, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, লাইবেরিয়া ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকসহ বিভিন্ন দেশের নাম এসেছে।
তবে এসব দেশের সঙ্গে পাঠানো অভিবাসীদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ
তৃতীয় দেশে দ্রুত অভিবাসী পাঠানোর নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি একটি ফেডারেল আপিল আদালত এমন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, যেখানে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত নোটিশ বা তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ জানানোর কার্যকর সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে অভিবাসীদের কোথায় পাঠানো হচ্ছে এবং সেখানে তাদের নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নীতিটি সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেয়নি এবং বিষয়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে বিতর্ক
মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। তাদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হলো—কোনো অভিবাসীকে এমন দেশে পাঠানোর আগে তার নিরাপত্তা ও আইনি অবস্থার যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কার কার্যক্রমকে নিজেদের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।
সারকথা: যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দেশে অভিবাসী প্রত্যাবাসন নীতি এখন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বড় বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

0 Comments