লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ব্রিকলেনে জমে উঠেছিল ‘কারি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। বাংলা খাবার, সংগীত, নৃত্য ও সংস্কৃতির বর্ণিল আয়োজনে রোববার প্রাণের উৎসবে পরিণত হয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা বাংলা টাউন।
খাবার-সংস্কৃতিতে মুখর ব্রিকলেন
সকাল থেকেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা ব্রিকলেনে জড়ো হতে থাকেন।
ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার ও সংস্কৃতিকে ঘিরে আয়োজিত উৎসবে দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। খাবারের পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
বর্ণিল র্যালিতে শুরু উৎসব
কারি ফেস্টিভ্যালের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। সড়কজুড়ে বাংলাদেশি সংস্কৃতির নানা প্রতীকসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন, সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাঙালির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।
র্যালিকে ঘিরে ব্রিকলেনে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরাও এতে আগ্রহ নিয়ে অংশ নেন।
এক ছাদের নিচে বাংলা খাবারের নানা স্বাদ
উৎসব উপলক্ষে ব্রিকলেনের রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোতে ছিল বিশেষ আয়োজন। দেশীয় মসলার ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কারি, বিরিয়ানি, ভুনা, তন্দুরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
খাবারের এই আয়োজনের পাশাপাশি ব্রিকলেনে প্রবাসী বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও সামাজিক ইতিহাসও নতুন করে সামনে আসে।
‘নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের পরিচয়’
উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের অনেকে বলেন, পরিবার নিয়ে এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের কাছে বিশেষ আনন্দের। খাবারের পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বাংলা সংস্কৃতি ও নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশেষ করে ব্রিকলেনকে ঘিরে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক এই উৎসবের মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
উদ্বোধনে মেয়র, উপস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি
কারি ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. মো. নজরুল ইসলাম।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রিকলেন কারি ফেস্টিভ্যালের লক্ষ্য শুধু খাবারের আয়োজন নয়; লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার অবদানকে আরও সামনে তুলে ধরা।
‘শুধু খাবারের উৎসব নয়’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, কারি ফেস্টিভ্যাল শুধু খাবারের উৎসব নয়। এটি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিচয় তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
ব্রিটিশ সমাজে কারি ও দক্ষিণ এশীয় খাবারের জনপ্রিয়তার পেছনে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি, যাতে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম বাংলা খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে পারে।
খাবার থেকে সংস্কৃতি—ব্রিকলেনে বাংলাদেশের আবহ
সব মিলিয়ে ‘কারি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ ব্রিকলেনকে একদিনের জন্য রূপ দিয়েছিল বাংলা খাবার ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কমিউনিটি সংযোগের এক মিলনমেলা।

0 Comments