Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ঠাকুরগাঁওয়ে ফার্মেসিতে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ চুরি, গ্রেপ্তার ৪


টিনের চাল ও সাটারের তালা ভেঙে ‘সৌহার্দ ফার্মেসি’তে চুরি; গোবিন্দগঞ্জ থেকে ৩ চোর ও চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | ডেস্ক রিপোর্ট

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর বিসিক এলাকার ‘সৌহার্দ ফার্মেসি’তে প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে চুরি হওয়া ওষুধ কেনার অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঠাকুরগাঁও সদর থানা ও গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গভীর রাতে ফার্মেসিতে হানা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একদল চোর গোবিন্দনগর বিসিক এলাকার সৌহার্দ ফার্মেসিতে প্রবেশ করে।

চোরেরা প্রথমে দোকানের টিনের চাল এবং সাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে ফার্মেসিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে যায়। পাশাপাশি ক্যাশে থাকা প্রায় ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থও নিয়ে যায় তারা।

চুরির পরদিন সকালে দোকান খুলতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন ফার্মেসির মালিক জয়দেব দেবনাথ। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর থানায় চুরির ঘটনায় মামলা করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত

মামলার পরপরই চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁও সদর থানা ও গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ দল।

অভিযানে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি করা ওষুধের একটি অংশ কোথায় বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়।

এরপর গোবিন্দগঞ্জের এক স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীকে চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে চোর চক্রের বিক্রি করা বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আদালতের মাধ্যমে কারাগারে

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাজাহান আলী জানান, ঘটনাটি একটি সুসংগঠিত চোর চক্রের কাজ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে ফার্মেসির তালা ভেঙে ওষুধ ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চোরাই ওষুধও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত চারজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ব্যস্ত বিসিক এলাকায় ফার্মেসিতে বড় ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা ও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

Post a Comment

0 Comments