জাতীয় ডেস্কঃ
দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামোয় দুর্ঘটনাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে এলএনজি সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।
উচ্চমূল্যে জ্বালানি সংগ্রহের দাবি
মন্ত্রী জানান, সংকটের সময় দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এলএনজি স্থাপনায় আগুনেও প্রভাব
মন্ত্রী আরও বলেন, যে স্থাপনা থেকে এলএনজি নামিয়ে সরবরাহ ও বিপণন করা হতো, সেখানে আগুন লাগার ঘটনাও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত সমস্যাও একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। এর আগে তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি আমদানি, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে।

0 Comments