মামলায় আসামি ১১ জন
মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।
অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ সাতজন আসামি বর্তমানে পলাতক হিসেবে মামলার কার্যক্রমে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদসহ আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা।
কী ঘটেছিল একরামুল হক হত্যায়?
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।
একরামুল হক তখন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ অবৈধ আটক, অপহরণ, হত্যা, অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা ও সহায়তার পাশাপাশি হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও এনেছে। এসব অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ; অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অর্থ নয়।
পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী
মামলার কার্যক্রমে পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ আগেই দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ করা হয় এবং আজকের দিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে ২৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়েও নজর
মামলায় আটক কয়েকজন আসামির জামিন আবেদনের ওপর শুনানিও ইতোমধ্যে হয়েছে। তাদের জামিনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশও আজ আসতে পারে বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ
এ মামলার আজকের শুনানি মূলত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কারণ অভিযোগ গঠন হলে মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বের দিকে আরও এগিয়ে যাবে। তবে অভিযোগ গঠন নিজেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করে না; বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিপক্ষের আইনি বক্তব্য বিবেচনার পর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টি দেখাচ্ছে যে আসামিরা আদালতে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রেখে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এখন সবার নজর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর আজকের শুনানির দিকে—অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কীভাবে উপস্থাপিত হয় এবং ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

0 Comments