Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নাশকতার সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম ৪ দিনের রিমান্ডে


উত্তরায় গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামকে ঘিরে সন্দেহ ডিবির; পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যে অসঙ্গতির দাবি

ক্রাইম ডেস্ক:

ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ শুনানি হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গভীর রাতে উত্তরায় আটক

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ৩টার দিকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরিচয় ও নথিপত্র নিয়ে পুলিশের প্রশ্ন

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করেছে, রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিউল নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়।

ডিবির দাবি, এসব নথিতে জন্মতারিখের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশে আসার কারণ সম্পর্কেও তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

পুলিশ আরও বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রবিউল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহ কেন?

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ বলেছে, রবিউল বাংলাদেশে কোনো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নাশকতার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আদালতের নথিতে উল্লিখিত সন্দেহ ও পুলিশের অভিযোগই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে এসেছে। রবিউল ইসলাম নাশকতায় জড়িত—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ বা আদালতের রায়ে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

আদালতে আইনজীবীর শুনানি হয়নি

শুনানির সময় রবিউলের পক্ষে আইনজীবী রুবেল আহমেদ রিমান্ডের বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেননি। আদালতের অনুমতি ছাড়া ওকালতনামায় আসামির স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল—এমন বিষয় সামনে আসায় তার পক্ষে শুনানি করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিউল ইসলামের পরিচয়

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলামের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার গৌড়ি ভোজ গ্রামে। তার বাবার নাম শহীদুল ইসলাম।

বিশ্লেষণ: রিমান্ডে এখন কোন বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে?

রবিউল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ড দেওয়ার ফলে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য, দেশে অবস্থানের সময়কার গতিবিধি, বিভিন্ন পরিচয়পত্রের তথ্যের অসঙ্গতির কারণ এবং সাম্প্রতিক কোনো নাশকতার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে অভিযোগ, সন্দেহ ও প্রমাণ—এই তিনটি বিষয় আলাদা। রিমান্ডে নেওয়া মানেই কোনো অপরাধে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত শেষে পুলিশ কী তথ্য বা প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করে, সেটিই পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বর্তমানে নিশ্চিত বিষয় হলো—নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত; তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

Post a Comment

0 Comments