রাজনৈতিক ডেস্কঃ
সাম্প্রতিক ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনাকে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানী।
শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদা খালের তীর সংরক্ষণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে।
‘গণতন্ত্র ধ্বংসের নতুন ষড়যন্ত্র’
অ্যানী বলেন, বিরোধীরা গণতন্ত্র ধ্বংসের নতুন ষড়যন্ত্রে জড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোটের দাবিগুলো পূরণ না হলে বোমাবাজি ও ককটেল বোমা বিস্ফোরণ বন্ধ হবে না—এমন বক্তব্য বিরোধী পক্ষ থেকেই এসেছে।
তবে এ বক্তব্যের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ নিয়ে প্রশ্ন
বিরোধীদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভাষার সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এমন কর্মকাণ্ডকে যদি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলা হয়, তাহলে দেশের মানুষ তা গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে অতীতের কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনাও করেন এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত অগ্নিসংযোগ, কাঁচা বোমা হামলা ও ঝটিকা মিছিলের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
‘গভীর ষড়যন্ত্র চলছে’
অ্যানীর বক্তব্যে দেশের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে বলেও অভিযোগ উঠে আসে।
তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে এবং দলটি রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতেও কথিত ‘অশুভ শক্তির’ বিরুদ্ধে রাজপথে মোকাবিলার কথা জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সহিংসতা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বোমা বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর এসেছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কাঁচা বোমা বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিলেন।
ফলে বোমা বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনাগুলো এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কারণ হয়ে উঠেছে।

0 Comments