হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১৯০ প্রশিক্ষণার্থী পেলেন সনদ ও আইডি কার্ড

সিলেট প্রতিনিধি | ধর্ম ও শিক্ষা ডেস্ক

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ধর্মীয় শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত করার লক্ষ্যে মুয়াল্লিম ও দাঈ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ১৯০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট পরিচালিত দাওয়াতে খায়র স্ট্যান্ডিং কমিটির উদ্যোগে এবং মৌলভীবাজার জেলা গাউসিয়া কমিটির সহযোগিতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

চার জেলার প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ

কর্মশালায় বৃহত্তর সিলেটের চার জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। আয়োজনের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন দরুদ আহমদ। যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন মৌলভীবাজার জেলা কমিটি ও হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী কুতুবউদ্দিন এবং অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার।

ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে প্রশিক্ষকদের বক্তব্য

প্রধান অতিথি ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন আনজুমান ট্রাস্টের ক্যাবিনেট সদস্য পেয়ার মোহাম্মদ এবং অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ অসিয়র রহমান আল কাদেরী।

প্রশিক্ষণে ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াতি কার্যক্রম ও স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ দেন মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, মাওলানা ইমরান হাসান কাদেরী, ক্বারী মুফতি হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষকেরা।

প্রধান প্রশিক্ষক মুফতি সৈয়দ অসিয়র রহমান বলেন, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ‘দাওয়াতে খায়র’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। যারা মাদ্রাসা বা যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাননি, তাদেরও এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্থানীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক কার্যক্রমের আহ্বান

প্রশিক্ষণে নিজ নিজ এলাকার মসজিদে নিয়মিত ‘দাওয়াতে খায়র’ মজলিস আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সনদ ও আইডি কার্ড বিতরণ

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ১৯০ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র ও আইডি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।