বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সেন্ট পিটার্স ক্যাথলিক চার্চে ভাঙচুর ও মা মারিয়ার মূর্তি পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ফায়জুল শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চার্চের পাশের পুকুর থেকে পানির নিচে থাকা মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চিতলমারী উপজেলার নতুন কালশিরা গ্রামের সেন্ট পিটার্স ক্যাথলিক চার্চে প্রবেশ করেন ফায়জুল শেখ। সেখানে চার্চের বারান্দার দেয়ালের সঙ্গে থাকা একটি কাঁচের বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরে ওই বক্সের ভেতরে থাকা মা মারিয়ার মূর্তিটি নিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে ফায়জুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুকুরে তল্লাশি, মিলল মূর্তি
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর ফায়জুল শেখের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চার্চের পশ্চিম পাশের পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে মা মারিয়ার মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মূর্তিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চার্চ কর্তৃপক্ষের মামলা
ঘটনার পর সেন্ট পিটার্স ক্যাথলিক চার্চের সভাপতি পিটার শংকর ব্রহ্ম বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে ফায়জুল শেখকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ফায়জুল শেখ চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের সোহরব শেখের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মাদক মামলাও থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়
পুলিশের প্রকাশিত বক্তব্যে ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য বা প্ররোচনার কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

0 Comments